Posts

সাধারণ মানুষের জন্যই দেশ হোক উম্মুক্ত এবং স্বাধীন

খুব সহজে বলা যায়, লিখা যায়, করতে বলা যায়, উপদেশ দেয়া যায়, হ্যাসট্যাগ দেয়া যায়, কিংবা কথা চাপায়ও দেয়া যায়। দুই মিনিট খালি কাজটাই করা যায় না। আমার চোখে এইটুকু কমতি ছিল.. জীবনে লজিক্যাল হওয়ার কারণে অনেক জায়গায় ধরা খাইছি। মানুষের একটা প্রবাদ শুনে খারাপ লাগত 'এই দেশে ভালো মানুষের কোন দাম নাই'। যখনই কিছু একটা করতে যাই, শুধু পরিচিতরাই না, বরং সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম, ব্যবসা, শিক্ষা সব জায়গা থেকে অসহযোগিতা পাইতাম; 'এইগুলো করে লাভ নাই'। আমি ৫ টাকার অধিকার নিয়ে কতবার কত দরজায় গেছি, কত মানুষের সামনা সামনি সত্যিটা বলছি... সেটা যাই-ই বিশ্বাস করি বা যেই বিচার-ই পাইনা কেন। অবশ্য তার হিসেব বুঝে নেয়ার জন্যে সাথে যথেষ্ট মানুষ থাকত না। কারণ সবাই আগে দেখত স্বার্থ, পাওয়া না পাওয়ার অংক, কি আছে কি নাই তার প্রতিযোগিতা। আর কিছু মানুষতো দেশই থাকল না এইরকম দায়ভার নিবেনা ভেবে। কেউ কেউ আছে যারা শুধু চার দেওয়াল বা অনলাইন ফটকে আটকে থাকে এইটুক বলে 'জনগনের সাথে আছি'। সোস্যাল মিডিয়ার মত অনেক মিডিয়াম এর উত্থান দেখেছি। তারপরও যখন একের পর এক মিথ্যা আসতে থাকে, তখন ডিসিশন নিলাম শুধু প্রকৃতি, সাধারণ মান...

একজন সুখী মানুষ ও তার বৃষ্টিবিলাস

কালাচাঁদপুর ব্রীজে সন্ধার পর আমরা প্রায় আড্ডা দেই । শামীমের দোকানে রাজনীতির আলাপ নিষিদ্ধ । একটা ভাংগা টুল, দাড়িয়ে থেকেই আমরা ঘন্টাখানেক পার করে দিতাম । অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরটা যেন নিমিষেই শক্তি এনে দিত । আমি, সোহাগ, মঈন আর তন্ময়, বন্ধুদের গল্প কোনদিন শেষ হত না । মঈন বুয়েটের ছাত্র, পড়াশোনায় সবসময় খুব ভালো ছিল । তার কমপ্লেইন আমাদের জন্য সে লাইফে কিছু করতে পারিনি । কিন্তু আড্ডা শেষে সে একটা তৃপ্তি নিয়ে বাসায় যেত.. "তোরা আছিস বলেই তো এতকিছু" । আমরা সবাই এই এলাকার আশেপাশেই থাকি ।  আমি যে মেসে ভাড়া থাকি, সেখানে রিপন নামে একটা নতুন ছেলে উঠেছে । কোন একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে । তাকে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত পড়ার টেবিল থেকে উঠতে দেখিনি । "আঁতেল পোলাপাইন" । তবে ছেলেটাকে দেখার পর মনে হল খুব স্বাভাবিক পরিবার থেকে এসেছে, ভার্সিটির খরচ চালাতে হিমশিম খায় । সে একটা টিউশনি করায়, মাঝেমাঝে বাড়ি ভাড়া দিতে দেরী করে । একি ফ্ল্যাটে থাকা সত্ত্বেও রিপনের সাথে আমার খুব একটা বেশি কথা হয়না । তন্ময়রা বলছে "একদিন আমাদের মাঝে তাকে নিয়ে আয় । বুয়েট-ডিইউ পর্য...

দূর ঢাকা ও নিয়মের বাইরে

ব্যস্ততার আড়ালে এইটুক সবুজ খুজি বলে অসিম নীলের ভিতর আর কোন মিটিং-মিছিল নেই। সূর্য ডুবে- আধারের সিগনাল বাড়তে দেইনি ট্রাফিক জ্যামে, বৃষ্টির ফোটা তাই আটকে রাখে সময়ের দরজা। ছোটছোট আনন্দের দ্বীপে লিখা আছে- ভালো থাকার গান। 

ডাকঘরে বৃষ্টি আর অভিমানী গল্প

সেদিন তার চিঠির উত্তরটা দিতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তুমি জানতে চেয়েছিলে এই পুজোর ছুটিতে আমি ঢাকায় আসব কিনা। ২দিনের জন্য এইবার আর সময় হয়ে উঠেনি। মা বলেছিল একবার সেজোমামার বাসায় ঘুরে আসতে। যাব যাব করে আর যাওয়া হলনা। কাজের ব্যস্ততায় তখন অনেক কিছুই যেন মিলাতে পারছিলাম না। তবুও তোমার মনরক্ষায় খানিকটা সময়ের জন্য আসব বলে মনস্থির করেছিলাম। তোমার ভেতরের উদাসীনতা আমাকে একপা একপা করে পিছনে টেনে রাখে। তুমি ইশারাতে আমার অপেক্ষায় থাকবে তা মেপে নেবার মত ঋনী আদৌ হয়নি আমি। দুরুত্ব বেড়ে গেলে আমাদের স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে ঘোলা হয়ে যায়। চিন্তা করছিলাম ফিরে এসে নিজের ভুলটা স্বীকার করব। বড় ছুটির আশায় একটা সপ্তাহ কেটে যাবে। দুপুর বেলায় অফিসের বারান্দায় পায়চারা করছিলাম। আজকে কাজের চাপও বেশি। এক কাপ চা খাব বলে মাসুদকে প্রায় আধ ঘন্টার জন্য খুজছি। সে দুটো ফাইল নিয়ে যে কোথায় হারাল আর দেখা পেলামনা। তোমার চিঠিটা বার বার পড়তে ইচ্ছে করছে, কোন এক আলসেমি নিয়ে পকেট থেকে আর বের করা হয়নি। বাইরে আকাশটা একটু কালো দেখা যাচ্ছে, দুপুরের খড়া রোদটাও নাই। বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব। মন খারাপ করার মত একটা দিন। তোমার কথা ভেবে কাল কয়েকটা ল...

কাঁচের দালানে

অজান্তেই উড়ে যায় নীল প্রজাপতি মনে মনে ছুঁয়ে দেই পাখা, ডাক দেয় পাখি । সাদা মেঘ কালো হয় দূরের আকাশ কত রাত ভোর হলে ক্ষতি নেই, ভেবে ভেবে থাকা তবু মিথ্যে আড়ম্বে । 

অবাধ্য শহর

তোমার আকাশ জুড়ে আলোকিত আমি একা, স্বপ্নগুলো ফিরে পেতে চাই না আমি, বিরুদ্ধে তোমার আমার অবাধ্য শহর । তোমার আকাশ আমার চোখে ছড়িয়ে দাও অলস কুয়াশার ভিতর অসহ্য এ ঘোড়, এখন আমার পথের দুপাশে নীল এক আগুন ছায়াদের গভীরে ছড়ায় এ নিস্তব্ধতায়, বিরুদ্ধে তোমার আমার অবাধ্য শহর । নিস্তব্ধ শহর, একাকী আমি, অস্তিত্বে খুঁজে পেয়ে, ক্লান্ত শহর, অক্লান্ত এ মন, খুঁজে পেতে চাই আমি, বিরুদ্ধে তোমার আমার অবাধ্য শহর । তোমাকে ঘিরে পথগুলো সয়ে যায় আলোকে চিনে নেয়, আমার শহর- বিরুদ্ধে তোমার আমার অবাধ্য শহর ।

অবাধ্য শহর-২

তোমার মাঝে আলোর আকাশ দেখি, আঁধার নামুক তোমার ছায়ার নিমিত্তে, আমার ভিতর বিরুদ্ধ চেতনায় ক্ষুব্ধ কেন, কেন, কেমন পরিহাস, এমন শব্দ ।